দীপাবলি সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য

Change Language

ভারতে, অনেক ধর্মীয় উৎসব রয়েছে যা বিভিন্ন ধর্ম দ্বারা বিভিন্নভাবে উদযাপিত হয়। দীপাবলি তাদের মধ্যে অন্যতম বড় উৎসব, যা সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ উদযাপন করে। এই উদযাপনের পিছনে কারণ হল অন্ধকারের উপর আলোর, অজ্ঞতার উপর জ্ঞানের এবং মন্দের উপর ভালোর বিজয়ের আনন্দ। দিওয়ালি নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ দীপাবলি থেকে, যার অর্থ “আলোর সারি”; দীপাবলি মূলত অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে উদযাপিত হয় কারণ এই উৎসবটি হিন্দু চন্দ্র ক্যালেন্ডারের উপর ভিত্তি করে সাজানো হয়, যা প্রতি মাসে চাঁদকে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করার সময় দ্বারা চিহ্নিত করে। হিন্দু মাস অশ্বিন এবং কার্তিকের মধ্যে অমাবস্যার আগমনের ঠিক আগে দীপাবলি শুরু হয় – যা সাধারণত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের অক্টোবর বা নভেম্বরে পড়ে।

Photo by Suvan Chowdhury from Pexels

কীভাবে বিভিন্ন ভৌগলিক অবস্থানে বিভিন্ন সম্প্রদায় দীপাবলি পালন করে থাকে?

হিন্দু, জৈন, শিখ এবং নতুনত্বর বৌদ্ধরা দীপাবলি উদযাপন করে থাকে, যদিও প্রত্যেকটি ধর্মের দীপাবলি উৎযাপনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক পটভূমিকা রয়েছে, কিন্তু তবুও, এই উৎসব একই প্রতীকী বিজয়ের প্রতিনিধিত্ব করে।

হিন্দুধর্ম

হিন্দুধর্মকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের ভিন্ন ভৌগলিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীপাবলির উৎযাপনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংস্করণ রয়েছে।

উত্তর ভারতে, মানুষেরা রাজপুত্র রামচন্দ্রের রাজা রাবণের বিরুদ্ধে বিরত্বপুর্ন বিজয়কে দীপাবলি হিসেবে পালন করে। এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হলো এই যে রাজপুত্র রামচন্দ্রকে তাঁর সৎ মাতার চক্রান্তের স্বীকার হয়ে ১৪ বছরের জন্যে বনবাসে চলে যেতে হয়, যেখানে রামচন্দ্রের স্ত্রী দেবী সীতাকে লঙ্কার রাজা রাবণ অপহরণ করে নিয়ে যায়। সীতা দেবীকে লক্ষ্মীর অবতার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রামচন্দ্র দীর্ঘ সাহসী যুদ্ধের পর তাঁর স্ত্রীকে উদ্ধার করে আবার তাঁর নগরী অযোধ্যায় ফিরে আসেন ১৪ বছর পর। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে রামচন্দ্রের এই জয়কেই দীপাবলি উৎসব হিসেবে পালন করা হয়।

দক্ষিনি ভারতে, শয়তান নরকাসুরের উপর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিজয়ের সম্মানে দীপাবলি উদযাপন করা হয়, নরকাসুর একজন অসুর রাজা ছিলেন এবং ১৬০০০ নারীকে তাঁর প্রাসাদে বন্দী করেছিলেন এবং তার সেই সমস্ত প্রজাদের কঠোর শাস্তি দিতেন যারা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস করত।

পশ্চিমি ভারতে, রাজা বালি ছিলেন অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী, তিনি চাইলে গোটা দেবলোক ধংস করে দিতে পারতেন। এমন একজন মানুষকে বাগে আনাও ছিল কঠিন। এমত অবস্থায়, ভগবান বিষ্ণু রাজা বালি-কে নির্বাসিত করতে সফল হন। তাই, ভগবান বিষ্ণুর এই জয়কেই এখানকার মানুষেরা দীপাবলি হিসেবে পালন করে।

পুর্ব ভারতে, বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গে) দীপাবলি, দেবী কালীর পূজা হিসাবে উদযাপিত হয়। দেবী কালী শক্তির প্রতীক, মন্দের উপর ভালোর জয়ের প্রতীক। অশুভ শক্তির হাত থেকে রেহাই পেতে মানুষ দেবী কালীর পূজা করে থাকে।

শিখধর্ম

এই ধর্মটি ১৫ শতকের শেষের দিকে হিন্দু ধর্মের মধ্যে একটি আন্দোলন হিসাবে উদ্ভূত হয়েছিল যা বিশেষ করে ভগবান বিষ্ণুর প্রতি নিবেদিত। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর কর্তৃক বন্দী গুরু হরগোবিন্দের গোয়ালিয়র দুর্গ কারাগার থেকে মুক্তির স্মরণে এবং যেদিন তিনি অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে এসেছিলেন সেদিনের স্মরণে শিখরা “বান্দী ছোর দিবস” উদযাপন করেন দীপাবলির দিন।

জৈনধর্ম

খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এই ধর্মের উদ্ভব হয়। জৈন ও নিবেদনের একজন পণ্ডিত বলেছেন যে জৈন ঐতিহ্যে, “মহাবীর নির্বাণ দিবস” পালন করে দীপাবলি উদযাপিত হয়। ভারতের অনেক অঞ্চলে উদযাপিত জৈন দীপাবলির, হিন্দু দীপাবলীর অনুরূপ অনুশীলন রয়েছে, যেমন প্রদীপ জ্বালানো এবং লক্ষ্মীকে প্রার্থনা করা। যাইহোক, জৈন দীপাবলির মূল কেন্দ্রবিন্দু মহাবীরের প্রতি উৎসর্গিত থাকে।

বুদ্ধধর্ম

এই ধর্মের উদ্ভব হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে। তৃতীয় শতাব্দীর হিন্দু সম্রাট অশোক, বৌদ্ধ ধর্মে যেদিন দীক্ষিত হয়েছিলেন সেই দিনটি দীপাবলি হিসাবে উদযাপন করেন বৌদ্ধ ধর্মালম্বিরা। কিন্তু দীপাবলি আসলে সমগ্র বৌদ্ধ ধর্মের মানুষের উৎসব নয়, নেপালের নতুনত্বর বৌদ্ধদের বাদ দিয়ে।

কেন আলো এবং আতশবাজি দিয়ে দীপাবলি উদযাপন করা হয়?

আমরা আগেই বলেছি, দীপাবলি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “দীপাবলি” থেকে যার অর্থ “আলোর সারি”; এখন, দীপাবলি যেমন অন্ধকারের (খারাপ শক্তি) উপর আলোর (ভাল শক্তির) জয়ের প্রতীক হিসাবে প্রতীত হয়, মানুষেরা তাদের মন এবং তাদের সমাজ থেকে অন্ধকারকে পরাস্ত করতে প্রচুর আলো দিয়ে তাদের বাড়ি, রাস্তা এবং অন্যান্য এলাকা আলোকিত করে। লোকেরা উজ্জ্বল আতশবাজিও উপভোগ করে যা খারাপ শক্তিকে (অন্ধকার) পরাস্ত করার জন্য একটি অস্ত্র হিসাবে প্রতীকী।

কিভাবে দীপাবলি উদযাপন করা হয়?

দীপাবলি হল একটি পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব, প্রতিটি দিনেরই নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে।

প্রথম দিনে, লোকেরা দেবী লক্ষ্মীর কাছে প্রার্থনা করে, মিষ্টি সেঁকে এবং তাদের ঘর পরিষ্কার করে।

দ্বিতীয় দিনে, লোকেরা প্রদীপ এবং রাঙ্গোলি দিয়ে সাজায়, রঙিন বালি, গুঁড়া, চাল বা ফুলের পাপড়ি দিয়ে মেঝেতে নকশা তৈরি করে।

তৃতীয় দিনটি দীপাবলির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। লোকেরা লক্ষ্মীকে সম্মান জানাতে মন্দিরে উপস্থিত হতে পারে বা বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে ভোজ এবং আতশবাজির জন্য জড়ো হতে পারে। ভক্তরা আগের দিন যে প্রদীপগুলি প্রদর্শন করেছিল তাও জ্বালিয়ে দেয়।

চতুর্থ দিনটি নতুন বছর হিসেবে পালিত হয় (বেশিরভাগ হিন্দু অঞ্চলের জন্য), লোকেরা একে অপরের সাথে উপহার এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

দীপাবলির শেষ দিন, পঞ্চম দিন, একজন ভাইবোনকে সম্মান জানাতে পালিত হয়।

 

A video coverage of Diwali by National Geographic Channel

কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে Wikipedia এবং NGC.

An Aftersearch India Documentation.

Share this post with your loved ones!

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest
Share on whatsapp
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সমন্ধিত নিবন্ধ-সমূহ

সাম্প্রতিক নিবন্ধ-সমূহ