পশ্চিমবঙ্গ সরকারের "স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ড" সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের সন্ধান

Change Language

কী এই স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ড?

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের সকল মানুষের কাছে প্রতিস্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ফের ক্ষমতায় এলে বাংলার সকল পড়ুয়াদের জন্য একটি ক্রেডিট কার্ড বানিয়ে দেবেন, যার ফলে বঙ্গবাসী যে কোন পড়ুয়া তার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে বা উচ্চশিক্ষার জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত যে কোন সময় ঋণ নিতে পারবে। এই ঋনের গ্যারেন্টার হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই মত, মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী ৩০শে জুন,২০২১ এ নবান্ন থেকে সরাসরি সাংবাদিক বৈঠক এর মাধ্যমে এই সরকারি ব্যাবস্থার উদ্বোধন করেন। এবার বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ডের এর জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন?

এই প্রকল্পের সুবিধা সেই সকল পড়ুয়ারাই নিতে পারবেন যারা অন্তত ১০ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে বাস করছেন এবং যাদের বয়স ৪০ বছরের নীচে এবং অবশ্যই দশম শ্রেনী উত্তীর্ন হতে হবে পড়ুয়াকে।

কোন কোন ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে?

  • সরকারি বা  বেসরকারী যে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষারত পড়ুয়ারাই এই আবেদন করতে পারবে।
  • উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির জন্যও আবেদন করা যেতে পারে।
  • ঋণের টাকায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, ডিপ্লোমা পাঠ্যক্রম, ডক্টরাল এবং পোস্ট ডক্টরাল স্তরে গবেষণার খরচ চালানো যাবে।
  • কোর্স ফি, টিউশন ফি, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের জন্যও ঋণ দেওয়া হবে এই কর্মসূচিতে।
  • বিদেশে বা ভিন রাজ্যে পরতে যাওয়ার জন্যও আবেদন করা যেতে পারে।

কীভাবে আবেদন করতে হবে?

১) রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.wb.gov.in) বা banglaruchchashiksha.wb.gov.in-তে যান। অথবা সরাসরি https://wbscc.wb.gov.in/-তে যান।

২) ‘Student Registration’-এ ক্লিক করুন।

৩) একটি নয়া পেজ খুলে যাবে। সেখানে বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে।

৪) সেখানে নিজের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি-সহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। আধার কার্ড থাকা বা না থাকার ভিত্তিতে সেই রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ভিন্ন হবে। পাসওয়ার্ডও দিতে হবে। তারপর ‘Register’-এ ক্লিক করতে হবে।

৫) যে ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে, তাতে ওটিপি যাবে। সেই ওটিপি লিখে ‘Verify’ করতে হবে।

৬) রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে স্ক্রিনে একটি ‘Registration ID’ আসবে। ফোনেও লগইন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাঠানো হবে।

৭) wbscc.wb.gov.in/ -তে গিয়ে Student Login-তে ক্লিক করুন। নয়া একটি পেজ খুলে যাবে।

৮) সেই রেজিস্ট্রেশন আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। 

৯) ‘Dashboard’ খুলে যাবে। সেখানে ‘Apply Now’-তে ক্লিক করুন।

১০) একটি নয়া পেজ খুলে যাবে। সেখানে বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। আধার কার্ড থাকা বা না থাকার ভিত্তিতে সেই রেজিস্ট্রেশন ফর্ম ভিন্ন হবে। পাশাপাশি ‘Download Undertaking Documents’ থাকবে। পড়ুয়াদের প্যান কার্ড না থাকলে ‘Download Undertaking Documents’ ডাউনলোড করতে হবে। ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ যাবতীয় তথ্য দেওয়ার পর ‘Save & Continue’ করুন।

১১) একটি নয়া পেজ খুলে যাবে। সেখানে যাবতীয় নথি এবং তথ্য মিলিয়ে দেখে নিন। তারপর ‘Submit Application’ ক্লিক করুন। কোনও তথ্য বা নথি পরিবর্তন করতে হলে ‘Edit Loan application’-এ ক্লিক করতে হবে। একবার সাবমিট হয়ে গেলে তথ্য পালটানো যাবে না।

১২) তারপর ‘Dashboard’-এ দেখাবে ‘Application Submitted to HOI’। তার অর্থ হল যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছেই আবেদনপত্র চলে গিয়েছে।

১৩) স্কুলের তরফে আবেদনপত্র পাঠানো হবে উচ্চ শিক্ষা দফতরকে। তখন ‘Dashboard’-এ দেখাবে ‘Application forwarded by to HOI to HED’।

এছারাও, বিস্তারিত তথ্যের জন্যে সরকারি সাহায্যকারী টোল ফ্রী নম্বর ১৮০০১০২৮০১৪ তে ফোন করে জানা যাবে।

Mamata Banarjee with student creadit card 

 

Credit: Anandabazar Patrika

কতবার ঋণ নেওয়া যাবে?  

সরকারিভাবে জানান হয়েছে, একজন শিক্ষার্থী সর্বচ্চ ১০ লক্ষ্য টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে। এর মানে এই নয় যে শিক্ষার্থীকে একসাথেই বা একবার ই ঋণ দেওয়া হবে। যখন দরকার পরবে তখন অনলাইন আবেদন করে টাকা পাবে পড়ুয়ারা।

ধরা যাক একাদশ শ্রেনীর কোন পড়ুয়া জয়েন্ট এর জন্য প্রস্তুতি নিতে ৫০০০ টাকা ঋণ নিল, দ্বাদশ শ্রেণী পাশ করার পর কোন বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে আবার ৫ লক্ষ্য টাকা ঋণ নিল। তারপর পরবর্তী কালে আবার উচ্চতর শিক্ষার জন্য ৪ লক্ষ্য ৫০০০  টাকা ঋণ নিল।

আবার কোন পড়ুয়ার প্রয়োজন পরলে সে এককালীন ও সম্পুর্ন ১০,০০,০০০ টাকাই ঋণ নিতে পারবেন।

ঋনের টাকা কীভাবে শোধ করতে হবে?

পড়ুয়াদের ঋনের টাকা ফেরত দিতে হবে তারা চাকরি পাওয়ার এক বছর পর থেকে। অর্থাৎ কেও যদি ২০২২ সালে চাকরি পায় তাঁকে ২০২৩ সাল থেকে ঋণ পরিশধ শুরু করতে হবে। ঋণ পরিশধের ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়ারর ১ বছর পর থেকে শুরু করে ১৫ বছর সময়সীমা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ডের সুদের হার কত?

স্টুডেন্ট ক্রেডিটকার্ডের সুদের হার মাত্র  ৪%। অর্থাৎ কেউ ১০০০০০০ টাকা ঋণ নিলে তাঁকে সুদে-আসলে ১০৪০০০০ টাকা শোধ করতে হবে।

ঋনের টাকা কোথায় ঢুকবে?

আবেদন করার সময় আবেদনকারী তার যে ব্যাঙ্কের নথি জমা করবে, সেই ব্যাঙ্কেই ঢুকবে ঋনের অর্থ। সেটা সরকারি, বেসরকারি বা সমবায় সমিতির ব্যাঙ্কও হতে পারে।

নিবন্ধটি নিজের প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করুন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on pinterest
Share on whatsapp
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সমন্ধিত নিবন্ধ-সমূহ

সাম্প্রতিক নিবন্ধ-সমূহ